×
প্রদীপ সরদার সম্পর্কে
মানুষের পাশে থেকে লড়াই, সংগ্রাম আর উন্নয়নের নাম — প্রদীপ সরদার।।
নফরগঞ্জ এর মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রদীপ সরদার আজ এলাকায় এক পরিচিত নাম। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে মানুষের জন্য কাজ করাকেই জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করা প্রদীপ সরদারের শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণী পর্যন্ত হলেও সমাজসেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে এলাকায় জনপ্রিয় করে তুলেছে।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৯০ সালে বাবার হাত ধরে সিপিআইএম এ যোগদানের মাধ্যমে। বাবা ছিলো সিপিআইএম এর নফরগঞ্জ এর দীর্ঘ ১২ বছর এর প্রধান। সেই সময় থেকেই সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন, এলাকার উন্নয়ন এবং সামাজিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেন তিনি। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও বিসর্জন দিতে হয়েছে তাঁকে। এলাকায় কান পাতলে,জানা যায়, সমাজের কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজের প্রায় ৩ বিঘা জমি এবং একটি দোকানের প্লট পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।
পরবর্তীকালে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এনে ভারতীয় জনতা পার্টি তে যোগ দেন প্রদীপ সরদার ২০১৭ সালে। এই রাজনৈতিক পালাবদলের সময় তাঁকে নানা চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। প্রায় ছয় মাস অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। সেই সময় বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে CRPF নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই নিরাপত্তা ছেড়ে দেন।
পারিবারিক জীবনেও তিনি একজন দায়িত্ববান মানুষ। পরিবারের একজন সন্তান বর্তমানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করে টাটা কোম্পানি তে কর্মরত। রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা সমানভাবে বজায় রয়েছে।
দীর্ঘ ১২ বছর প্রধান হিসেবে নিজের বাবা কে কাজ করতে দেখে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আরও বৃদ্ধি পায়।বিগত ২০২১ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস এর সন্ত্রাস এ ঝরখালী,কুমিরমারি, কাটা জঙ্গল এর ঘর ছাড়া মানুষ এর আশ্রয় স্থল হয়ে উঠেছিল প্রদীপ সরদার এর নিজের বাড়ি। প্রায় ১০০০ মানুষ তৃণমুল কংগ্রেস এর অত্যাচার এ প্রদীপ বাবুর বাড়ি আশ্রয় ন্যায় এবং প্রদীপ বাবু দুই বেলা তাদের মুখে অন্ন তুলে দিতেন ,যা প্রদীপ সরদারকে এলাকায় আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। স্থানীয় মানুষের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। উন্নয়ন, জনসংযোগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্যই আজও তিনি এলাকার এক পরিচিত মুখ।